ফুটপাথে পানি বিক্রি করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বাবাকে পবিত্র হজে পাঠানোর স্বপ্ন দেখা সংগ্রামী কিশোর সুজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুজনের আবেগঘন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তার স্বপ্ন, শিক্ষা ও পরিবারের দায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সুজনের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন। এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, সুজনের লেখাপড়ার যাবতীয় ব্যয় সরকার বহন করবে এবং তাকে আর জীবিকার জন্য রাস্তায় নামতে হবে না।
অনুদান প্রদানকালে প্রতিমন্ত্রী সুজনের পরিবারের প্রতি আহ্বান জানান, শিশুটিকে আর কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে না পাঠিয়ে দ্রুত বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে। তিনি বলেন, একটি শিশুর স্থান কর্মক্ষেত্রে নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সুজনের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে আবেগাপ্লুত হয়ে সুজনের বাবা জানান, তিনি আর কখনো ছেলেকে ফুটপাথে পানি বিক্রি করতে দেবেন না। যত দ্রুত সম্ভব তাকে স্কুলে ভর্তি করানোর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
আমিনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম ও মানবিক বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসা এমন কোনো মানবিক ঘটনা তার দৃষ্টি এড়ায় না। তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন, যাতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়।
তিনি আরও বলেন, বাবাকে হজে পাঠানোর জন্য সুজনের ইচ্ছা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে সরকারের প্রত্যাশা, সুজন পড়াশোনা করে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ভবিষ্যতে নিজের যোগ্যতায় বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সুজনের পরিবারের আর্থিক সংকট, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা এবং একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবার কষ্ট বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে সুজনকে আর জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নামতে হবে না; বরং সে নিয়মিত পড়াশোনা করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবে।
ইউ